রাষ্ট্র বিজ্ঞান
আধুনিক রাষ্ট্র কী কী কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে? আলোচনা কর।
মোঃ আব্দুল আলিম
প্রকাশঃ ৬ নভেম্বর ২০২৫, ৯:০৭ পিএম

রাষ্ট্র একটি জটিল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যা চারটি মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এই উপাদানগুলো হলো জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সার্বভৌম ক্ষমতা এবং সুসংগঠিত সরকার ব্যবস্থা। এই চারটি উপাদান ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তবে রাষ্ট্রের কাজ শুধুমাত্র এই উপাদানগুলোকে একসাথে রাখাই নয়, বরং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের প্রকৃতি এবং উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করে আসছেন। তাদের মধ্যে মতভেদ এতটাই ব্যাপক যে রাষ্ট্রের লক্ষ্য সম্পর্কে কোনো সর্বজনীন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি আজও। কেউ মনে করেন রাষ্ট্রের কাজ শুধুমাত্র নিরাপত্তা প্রদান করা, আবার কেউ বিশ্বাস করেন রাষ্ট্রকে জনগণের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এই মতপার্থক্যের কারণ হলো বিভিন্ন সমাজ ও সময়ে রাষ্ট্রের ভূমিকা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
প্রখ্যাত দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল এ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছেন যে রাষ্ট্রের প্রকৃত কার্যাবলি সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিমত জ্ঞাপন করা প্রায় অসম্ভব। এর কারণ হলো ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ভিন্ন রকম হতে পারে। একটি উন্নত দেশের রাষ্ট্রের কাজ যেমন হবে, একটি উন্নয়নশীল দেশের রাষ্ট্রের কাজ হয়তো সেরকম নাও হতে পারে। তবে একটি বিষয়ে সকলেই একমত যে সামগ্রিকভাবে জনকল্যাণই রাষ্ট্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হওয়া উচিত।
আধুনিক রাষ্ট্রের কার্যাবলিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
ক. প্রাথমিক বা অপরিহার্য কার্যাবলি এবং
খ. ঐচ্ছিক কার্যাবলি।
প্রাথমিক বা অপরিহার্য কার্যাবলি
রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং সমাজে মৌলিক শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে যেসব কাজ করা অত্যাবশ্যক, সেগুলোই প্রাথমিক বা অপরিহার্য কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। এই কাজগুলো না করলে রাষ্ট্র তার মূল চরিত্র হারিয়ে ফেলে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা যা অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। এই সার্বভৌমত্ব ছাড়া রাষ্ট্র গঠনই সম্ভব নয়। যদি কোনো কারণে রাষ্ট্র তার সার্বভৌমত্ব হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই প্রতিটি রাষ্ট্রকে তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হয়।
অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের আরেকটি অপরিহার্য কাজ। জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র সুস্থভাবে পরিচালিত হতে পারে না। এজন্য রাষ্ট্রকে শক্তিশালী সামরিক এবং আধা-সামরিক বাহিনী গঠন করতে হয়। পুলিশ বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলো এই দায়িত্ব পালন করে। এই বাহিনীগুলো নাগরিকদের সুরক্ষা দেয় এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে।
পররাষ্ট্র বিষয়াবলি পরিচালনা করাও রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব। বর্তমান বিশ্বে কোনো রাষ্ট্রই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য রাষ্ট্রকে বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করতে হয়। একইসাথে অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের সাদর অভ্যর্থনা জানাতে হয় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন করতে হয়। এই কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে রাষ্ট্র তার স্বার্থ রক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে।
শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাও রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এজন্য রাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী শাসন বিভাগ গঠন করতে হয়। বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হয় এবং উপযুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হয়। শাসন বিভাগ দেশের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করে এবং সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করে।
আইন প্রণয়ন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন অপরিহার্য। এজন্য রাষ্ট্রকে একটি আইন বিভাগ গঠন করতে হয়। এই বিভাগ প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আইন তৈরি করে, পুরাতন আইন সংশোধন করে এবং অপ্রয়োজনীয় আইন বাতিল করে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণ করে।
বিচারকার্য সম্পাদন করা রাষ্ট্রের আরেকটি অপরিহার্য দায়িত্ব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রকে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ গঠন করতে হয়। সৎ এবং দক্ষ বিচারক নিয়োগ করতে হয় যারা নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। বিচার বিভাগ নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে এবং অপরাধীদের শাস্তি প্রদান করে।
আর্থিক কার্যাবলি পরিচালনা করাও রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। রাষ্ট্রকে খাজনা ও কর নির্ধারণ এবং আদায় করতে হয়। বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করতে হয় এবং মুদ্রা প্রচলন করতে হয়। এই আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার বিভিন্ন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
ঐচ্ছিক কার্যাবলি
আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শুধু অপরিহার্য কাজ করলেই চলে না। জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধনের জন্য রাষ্ট্রকে আরও অনেক কাজ করতে হয়। এই কাজগুলোকে ঐচ্ছিক কার্যাবলি বলা হলেও বর্তমান সময়ে এগুলো প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
শিক্ষা সংক্রান্ত কাজ আধুনিক রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দেশের প্রতিটি নাগরিককে সুশিক্ষিত করে তোলা রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এজন্য রাষ্ট্র বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করে। স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী একটি দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তাই শিক্ষার প্রসারে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যাবলি আধুনিক রাষ্ট্রের আরেকটি প্রধান দায়িত্ব। জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো দেশ প্রকৃত উন্নতি অর্জন করতে পারে না। এজন্য রাষ্ট্র হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মাতৃসদন এবং পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করে। বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি পরিচালনা করে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন আধুনিক রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে এবং বাহিরে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হয়। রাস্তাঘাট, সেতু, বন্দর নির্মাণ করতে হয়। ডাক, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সেবা স্থাপন ও পরিচালনা করতে হয়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শিল্প-বাণিজ্য সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হয়। শিল্পপতিদের উৎসাহিত করতে হয় এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হয়। ব্যাংক, বিমা কোম্পানি এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল রাখে।
শ্রমিক কল্যাণ আধুনিক রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শ্রমজীবী মানুষেরা দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। তাদের কল্যাণের জন্য রাষ্ট্রকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়। ন্যায্য বেতন নির্ধারণ, বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদান করতে হয়। শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং তাদের অধিকার রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিভিন্ন জনহিতকর কাজ সম্পাদন করা আধুনিক রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান, খাল খনন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এসব কাজ রাষ্ট্র করে থাকে। জনগণের জন্য বিনোদনের সুব্যবস্থা করা, পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন করা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান করা এসব কাজও রাষ্ট্র করে থাকে। এই সমস্ত কাজ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।
সমাপনী বিশ্লেষণ
রাষ্ট্রের কার্যাবলি নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ এবং তত্ত্ব থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে দেশের নিরাপত্তা, ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করা এবং সর্বাধিক পরিমাণ জনকল্যাণ সাধন করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। প্রাচীনকালে রাষ্ট্রের কাজ ছিল খুবই সীমিত। রাষ্ট্র শুধুমাত্র নিরাপত্তা প্রদান এবং বিচারকার্য পরিচালনা করত। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রের ধারণা এবং কাজের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল রাষ্ট্রই কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। কল্যাণকর রাষ্ট্রের ধারণা অনুযায়ী রাষ্ট্রকে শুধু নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জনগণের সার্বিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে হয়। এই ধারণার ফলেই রাষ্ট্রের কার্যাবলি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্র মানুষের জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে কোনো না কোনোভাবে সহায়তা প্রদান করে।
রাষ্ট্রের কার্যাবলি নির্ধারণে ব্যক্তি এবং সমাজের প্রয়োজনই মূল নির্ধায়ক। একটি সমাজে যখন নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়, রাষ্ট্রকে সেই সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন নতুন কার্যক্রম হাতে নিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশ দূষণ একটি আধুনিক সমস্যা যা আগে রাষ্ট্রের কাজের তালিকায় ছিল না। কিন্তু এখন পরিবেশ রক্ষা করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এটা মনে রাখা জরুরি যে রাষ্ট্রের কার্যাবলি বৃদ্ধি পেলেও রাষ্ট্রের উচিত নয় ব্যক্তির স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করা। একটি সুস্থ রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। রাষ্ট্রকে জনকল্যাণ সাধন করতে হবে, কিন্তু একইসাথে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতাও রক্ষা করতে হবে।
উপসংহার
শেষ কথা হলো, আধুনিক রাষ্ট্র একটি জটিল প্রতিষ্ঠান যার কাজের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। প্রাথমিক নিরাপত্তা প্রদান থেকে শুরু করে জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা পর্যন্ত সবকিছুই রাষ্ট্রের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। তবে মনে রাখতে হবে যে রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত জনগণের সেবক, জনগণের প্রভু নয়। জনগণের প্রয়োজন এবং আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কার্যাবলি নির্ধারিত হওয়া উচিত এবং সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রকে তার ভূমিকা পালন করতে হবে।
কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।
© কফিপোস্ট ডট কম
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন