KOFIPOST

KOFIPOST

শিক্ষাক্ষেত্রে ও দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং এর ইতিহাস ও গুরুত্ব

মোঃ মাসুদ রানা
অ+
অ-
শিক্ষাক্ষেত্রে ও দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং এর ইতিহাস ও গুরুত্ব

আধুনিক সভ্যতায় ইন্টারনেট এমন এক প্রযুক্তি যা আমাদের জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছে। মাকড়সার জালের মতো বিস্তৃত এই আন্তর্জাল আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এতটাই জড়িয়ে গেছে যে এর বাইরে থাকার কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব। শিক্ষা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা থেকে বিনোদন, যোগাযোগ থেকে গবেষণা সবক্ষেত্রেই ইন্টারনেট আজ এক অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

ফেসবুক

টেলিগ্রাম

প্রযুক্তির বিবর্তন এবং ইন্টারনেটের আবির্ভাব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্রমাগত অগ্রগতি মানবসভ্যতায় নিয়ে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। যে সভ্যতা একসময় চিঠির জন্য অপেক্ষা করত দিনের পর দিন, সেই সভ্যতা আজ সেকেন্ডের ভগ্নাংশে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তথ্য পাঠাতে সক্ষম। এই অভাবনীয় রূপান্তরের মূলে রয়েছে ইন্টারনেট নামক এক যুগান্তকারী আবিষ্কার।

গণমাধ্যমের জগতেও প্রযুক্তির প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্ট। ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে বেতার আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে টেলিভিশন এবং সর্বশেষ ইন্টারনেটের মতো অত্যাধুনিক মাধ্যমে পৌঁছেছে। প্রথমে বিশ্বকে বাক্সবন্দি করা হয়েছিল টেলিভিশনের পর্দায়, এখন সেই বিশ্ব এসে গেছে আমাদের হাতের মুঠোয় মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে।

ইন্টারনেট কী এবং কীভাবে কাজ করে

ইন্টারনেট মূলত ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি এমন একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যা পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, সুপার কম্পিউটার এবং অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্রকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করে তথ্যের আদান-প্রদান সম্ভব করে তোলে।

এই জটিল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় প্রতিটি সংযুক্ত যন্ত্রের একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে যাকে বলা হয় ওয়েব অ্যাড্রেস। এই ঠিকানা ব্যবহার করে আমরা ইন্টারনেটে বিভিন্ন তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করতে পারি, যেগুলোকে বলা হয় ওয়েবসাইট। মূলত এই সহজ কিন্তু শক্তিশালী ব্যবস্থাই আজ সমগ্র বিশ্বকে একসূত্রে গেঁথে রেখেছে।

ইন্টারনেটের ইতিহাস এবং বিকাশ

১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে অধ্যাপক জে. সি. আর. লিকলাইডার প্রথম গ্যালাক্টিক নেটওয়ার্ক কনসেপ্টের ধারণা উপস্থাপন করেন। তার এই দূরদর্শী চিন্তা বাস্তবায়িত হতে সময় লেগেছিল প্রায় এক দশক। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপিত হয়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে হয়তো খুব কম মানুষই বুঝতে পেরেছিল যে তারা সাক্ষী হচ্ছে এক নতুন যুগের সূচনার।

প্রথম দিকে ইন্টারনেট সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। মূলত প্রতিরক্ষা ও গবেষণা কাজে এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুদ্ধের খবর সম্প্রচারিত হলো, তখনই সাধারণ মানুষের কাছে এর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠল। এই ঘটনা ইন্টারনেটকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ ছিল ইন্টারনেটের ইতিহাসে এক টার্নিং পয়েন্ট। এই বছর ইন্টারনেটকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় ইন্টারনেটের অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রা। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে হাজার হাজার নতুন ব্যবহারকারী এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হন। প্রথমে অফিস-আদালতে সীমাবদ্ধ থাকলেও অচিরেই ইন্টারনেট প্রবেশ করে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে।

শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেটের বহুমুখী ভূমিকা

শিক্ষাব্যবস্থায় ইন্টারনেট এনেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। আধুনিক শিক্ষার প্রতিটি স্তরে এর উপস্থিতি আজ অনস্বীকার্য। শিক্ষার্থীরা এখন যেকোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানা, সেখানে ভর্তির জন্য আবেদন করা, এমনকি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সবই এখন সম্ভব ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

গবেষকদের জন্য ইন্টারনেট খুলে দিয়েছে অসীম সম্ভাবনার দুয়ার। যে তথ্য আগে সংগ্রহ করতে মাসের পর মাস লেগে যেত, এখন তা পাওয়া যায় মাত্র কয়েক মিনিটে। বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরির ই-সংস্করণ থেকে দুর্লভ গবেষণাপত্র সংগ্রহ করা এখন অত্যন্ত সহজ। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন রেফারেন্স বই ডাউনলোড করে পড়তে পারে। এমনকি কোনো পাঠ্যবই হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করার সুবিধাও এখন রয়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইন্টারনেট তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। অসংখ্য শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ সবকিছুই এখন হয় অনলাইনে। এতে সময় ও অর্থ উভয়েরই সাশ্রয় হচ্ছে।

অনলাইন শিক্ষা বা ই-লার্নিং ইন্টারনেটের আরেকটি যুগান্তকারী অবদান। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। লাইভ ক্লাসে অংশগ্রহণ করা, শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করা, এমনকি পরীক্ষা দেওয়াও সম্ভব এই মাধ্যমে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনলাইন শিক্ষাই শিক্ষাব্যবস্থাকে সচল রেখেছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য যেকোনো সংকটকালে এই ব্যবস্থা শিক্ষাকে অব্যাহত রাখার একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের বিস্তৃত ব্যবহার

আধুনিক জীবনযাত্রায় ইন্টারনেট এমন গভীরভাবে প্রবেশ করেছে যে এর অনুপস্থিতি এখন কল্পনাও করা যায় না। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাত্রে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের অসংখ্য কাজ ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল।

  • তথ্য আদান-প্রদানে নতুন যুগ: যোগাযোগব্যবস্থায় ইন্টারনেট এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ই-মেইল আবিষ্কারের মাধ্যমে চিঠিপত্র আদান-প্রদানের পুরনো পদ্ধতি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এক মুহূর্তে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বার্তা পাঠানো, বড় ফাইল স্থানান্তর করা, এমনকি ভিডিও বা অডিও ফাইল শেয়ার করা সবই এখন অত্যন্ত সহজ। যেখানে আগে একটি চিঠি পৌঁছাতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগত, এখন সেই কাজ হয়ে যায় সেকেন্ডের মধ্যে। সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থান যোগাযোগব্যবস্থায় আরেকটি মাত্রা যোগ করেছে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষকে কেবল সংযুক্তই করছে না, বরং এক নতুন ধরনের সামাজিক পরিবেশ তৈরি করেছে। ভিডিও কল এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দূরত্ব এখন আর বাধা নয়। পরিবারের সদস্যরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকলেও প্রতিদিন মুখোমুখি কথা বলতে পারছে।
  • বিনোদনে নতুন দিগন্ত: বিনোদনের জগতে ইন্টারনেট এনেছে অভাবনীয় বৈচিত্র্য। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিস্ফোরণ বিনোদন শিল্পকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছে। ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, হটস্টার, অ্যামাজন প্রাইমের মতো মাধ্যমগুলো মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বমানের বিনোদন। যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় পছন্দের সিনেমা, সিরিজ বা অনুষ্ঠান দেখার সুবিধা আগে কখনো ছিল না। ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম লুকিয়ে থাকা প্রতিভাদের জন্য খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার নতুন দরজা। যেকেউ তার প্রতিভা প্রদর্শন করে বিশ্বব্যাপী দর্শক পেতে পারে। গান, নৃত্য, অভিনয়, রান্না, শিক্ষা যেকোনো বিষয়ে কন্টেন্ট তৈরি করে অসংখ্য মানুষ আজ জীবিকা নির্বাহ করছে। এই নতুন পেশা তৈরি করেছে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ।
  • ব্যবসা-বাণিজ্যে ডিজিটাল রূপান্তর: ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসার ধারণা ব্যবসা-বাণিজ্যে এনেছে আমূল পরিবর্তন। ঘরে বসে কেনাকাটা করার সুবিধা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। জামাকাপড় থেকে শুরু করে খাবার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, আসবাবপত্র সবকিছুই এখন অনলাইনে কেনা যায়। বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী বাদ পড়ায় পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং ক্রেতারা ভালো মানের পণ্য পায়। অনলাইন ব্যাংকিং আর্থিক লেনদেনকে করেছে অত্যন্ত সহজ ও নিরাপদ। ব্যাংকে না গিয়েই টাকা স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, অ্যাকাউন্ট পরিচালনা সবকিছু করা যায় মোবাইল ফোন থেকে। এতে সময় ও অর্থ উভয়েরই সাশ্রয় হচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করছে যা অর্থনীতির স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
  • চিকিৎসাসেবায় নতুন সম্ভাবনা: টেলিমেডিসিন বা অনলাইন চিকিৎসাসেবা স্বাস্থ্যসেবায় নিয়ে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। দূরবর্তী এলাকার মানুষ এখন ভিডিও কলের মাধ্যমে শহরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে। চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট, এক্স-রে, এমআরআই ইত্যাদি ডিজিটালভাবে পাঠানো যায় যা দ্রুত রোগ নির্ণয়ে সহায়ক। অনলাইনে ওষুধ কেনার সুবিধাও এখন পাওয়া যায়।

ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং এর প্রতিকার

যেকোনো শক্তিশালী প্রযুক্তির মতো ইন্টারনেটেরও রয়েছে অপব্যবহারের সম্ভাবনা। দিন দিন এর অপব্যবহার বেড়েই চলেছে যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিশু-কিশোরদের মধ্যে অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার সৃষ্টি করছে নানা সমস্যা। অনলাইন গেমে আসক্তি তাদের পড়াশোনা ও শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। সামাজিক মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত সময় কাটানো তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।

সাইবার অপরাধ বর্তমান সময়ের এক বড় সমস্যা। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইন জালিয়াতি, সাইবার বুলিং প্রতিদিন ঘটছে। নারী ও শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনলাইনে যৌন হয়রানি একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত যা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

এসব সমস্যা মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ সাইবার সেল গঠন করেছে। এই বিশেষায়িত বিভাগগুলো অনলাইন অপরাধ শনাক্ত করে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এথিক্যাল হ্যাকিং, সাইবার সিকিউরিটির মতো বিষয়ে শিক্ষাদান ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।

ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দায়িত্ব

ইন্টারনেট প্রযুক্তি এখনো বিকাশমান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি ইন্টারনেটকে আরো শক্তিশালী করে তুলছে। ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরো ব্যাপক হবে এবং মানবজীবনে এর প্রভাব আরো গভীর হবে। তাই এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহারে পিতামাতার তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। তাদের সীমিত এবং নিয়ন্ত্রিত সময়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করতে উৎসাহিত করতে হবে। শুধু বিনোদন নয়, শিক্ষামূলক কাজে ইন্টারনেট ব্যবহারে তাদের অভ্যস্ত করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে সকলকে সচেতন হতে হবে। সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার মতো সাধারণ সতর্কতা অনেক সমস্যা এড়াতে পারে।

ইন্টারনেট একটি উন্মুক্ত জায়গা যেখানে সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু এই স্বাধীনতার অপব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যদের সম্মান করা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা, সাইবার বুলিং না করা প্রতিটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর নৈতিক দায়িত্ব।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, ইন্টারনেট আমাদের জীবনে এসেছে আশীর্বাদ হয়ে। এর সঠিক এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি। প্রযুক্তির এই যুগে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তাই ইন্টারনেটকে আলিঙ্গন করতে হবে, তবে সাবধানতার সাথে। এর শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে মানবকল্যাণে, এর ঝুঁকি থেকে নিজেদের এবং পরিবারকে রক্ষা করতে হবে সচেতনতার মাধ্যমে। তবেই ইন্টারনেট হয়ে উঠবে মানবসভ্যতার অগ্রগতির এক প্রকৃত সহায়ক শক্তি।

ট্যাগস:

ডিগ্রিপড়াশোনাইন্টারনেটডিজিটাল শিক্ষা

কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।

© কফিপোস্ট ডট কম

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন