KOFIPOST

KOFIPOST

ফিন্যান্সিয়াল কাস্টমার সর্ভিসেস-1

ব্যংকিং এর ক্ষেত্রে SMS সার্ভির কী?

মো: আবু সাঈদ
অ+
অ-
ব্যংকিং এর ক্ষেত্রে SMS সার্ভির কী?

ভূমিকা

আধুনিক জীবনযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে ব্যাংকিং খাত এখন আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে ব্যাংকের দোরগোড়ায় না গিয়েও গ্রাহকরা এখন মুহূর্তের মধ্যেই তাদের হিসাবের খবরাখবর নিতে পারছেন। এই ডিজিটাল বিপ্লবের অন্যতম একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো এসএমএস ব্যাংকিং। মূলত মোবাইল ফোনের সংক্ষিপ্ত বার্তা বা মেসেজ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করার পদ্ধতিই হলো এই সার্ভিসের মূল ভিত্তি। সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবাকে সহজবোধ্য ও দ্রুততর করার পেছনে এই প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য।

ফেসবুক

টেলিগ্রাম

সংজ্ঞা

মোবাইল ফোনের সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠানোর প্রযুক্তি ব্যবহার করে যখন কোনো গ্রাহক তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন বা নির্দিষ্ট কিছু সেবা গ্রহণ করেন তখন তাকে এসএমএস ব্যাংকিং বলা হয়। এটি একটি দ্বি-মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে গ্রাহক নির্দিষ্ট কোড লিখে ব্যাংকের নম্বরে পাঠালে ব্যাংক ফিরতি মেসেজে প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক নিজে থেকেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে হওয়া প্রতিটি লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় যা পুশ সার্ভিস নামে পরিচিত। এই সেবার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম এখন আর কেবল শাখা বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

সাধারণত এই সার্ভিসের আওতায় গ্রাহকরা যেসব সুবিধা পেয়ে থাকেন তা নিচে দেওয়া হলো।

  • অ্যাকাউন্টের বর্তমান ব্যালেন্স বা স্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়া।
  • সর্বশেষ কয়েকটি লেনদেনের সংক্ষিপ্ত বিবরণী বা মিনি স্টেটমেন্ট দেখা।
  • চেকে পেমেন্ট বন্ধ করার জন্য অনুরোধ পাঠানো।
  • বৈদেশিক মুদ্রার বর্তমান বিনিময় হার সম্পর্কে তথ্য জানা।
  • ব্যাংকের নতুন কোনো স্কিম বা ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের শেষ সময় সম্পর্কে অ্যালার্ট পাওয়া।

গুরুত্ব

নিরাপত্তা এবং সচেতনতার দিক থেকে বিবেচনা করলে ব্যাংকিং খাতে এসএমএস সার্ভিসের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি লেনদেনের পর যখন গ্রাহকের মোবাইলে একটি বার্তা আসে তখন তিনি নিশ্চিত হতে পারেন যে তার অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো টাকা উত্তোলন করা হয়েছে কি না। এটি এক ধরনের ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করে যা সম্ভাব্য জালিয়াতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত লেনদেন রোধে সাহায্য করে। এছাড়া স্মার্টফোন বা উচ্চগতির ইন্টারনেটের অভাব থাকলেও সাধারণ একটি ফিচার ফোনের মাধ্যমেই এই সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয় বলে এটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ব্যাংকিং প্রক্রিয়াকে কাগজবিহীন ও সময়সাশ্রয়ী করার ক্ষেত্রে এই সেবাটি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায় যে এসএমএস ব্যাংকিং হলো আধুনিক প্রযুক্তির এমন এক আশীর্বাদ যা ব্যাংক এবং গ্রাহকের মধ্যকার দূরত্বকে ঘুচিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা যেমন মানসিক স্বস্তি পাচ্ছেন তেমনি ব্যাংকগুলোও তাদের সেবার মান উন্নত করতে সক্ষম হচ্ছে। ইন্টারনেটের জটিলতা ছাড়াই সহজভাবে ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও বেশি জনপ্রিয় হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিরাপদ ও স্মার্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসএমএস সার্ভিসের ভূমিকা সত্যিই অপরিসীম।

ট্যাগস:

আইসিটি

কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।

© কফিপোস্ট ডট কম

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন