KOFIPOST

KOFIPOST

ফিন্যান্সিয়াল কাস্টমার সর্ভিসেস-1

ব্যাংক হিসাবের ডেবিট ব্যালেন্স বলতে কী বুঝায়?

মো: আবু সাঈদ
অ+
অ-
ব্যাংক হিসাবের ডেবিট ব্যালেন্স বলতে কী বুঝায়?

ভুমিকা

ব্যাংক হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারিগরি শব্দ আমাদের সামনে আসে যা সাধারণ গ্রাহকদের কাছে কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। বিশেষ করে হিসাবের স্থিতি বা ব্যালেন্স বোঝাতে ডেবিট এবং ক্রেডিট শব্দ দুটি বহুল ব্যবহৃত হয়। একজন সচেতন গ্রাহক হিসেবে নিজের জমানো টাকা এবং ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের হিসাব বুঝতে এই শব্দগুলোর সঠিক অর্থ জানা জরুরি। মূলত ব্যাংকিং পরিভাষায় ডেবিট ব্যালেন্স একটি বিশেষ আর্থিক অবস্থাকে নির্দেশ করে যা সাধারণ জমার চেয়ে কিছুটা ভিন্নধর্মী এবং দায়বদ্ধতার পরিচায়ক।

ফেসবুক

টেলিগ্রাম

সংজ্ঞা

ব্যাংক হিসাবের ডেবিট ব্যালেন্স বলতে মূলত গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমানো টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন বা ব্যয়ের ফলে তৈরি হওয়া ঋণাত্মক অবস্থাকে বুঝায়। সহজ কথায় যখন কোনো গ্রাহক তার একাউন্টে থাকা জমার চেয়ে বেশি টাকা খরচ করে ফেলেন তখন ব্যাংকের লেজারে ওই হিসাবটি ডেবিট ব্যালেন্স হিসেবে প্রদর্শিত হয়। সাধারণ সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাবে সাধারণত ক্রেডিট ব্যালেন্স থাকে কারণ সেখানে গ্রাহকের নিজস্ব টাকা জমা থাকে। তবে যখন কোনো বিশেষ চুক্তির অধীনে ব্যাংক গ্রাহককে তার জমার অতিরিক্ত টাকা ব্যবহারের সুযোগ দেয় তখন সেই হিসাবটি ডেবিট স্থিতি ধারণ করে।

ডেবিট ব্যালেন্স তৈরি হওয়ার পেছনে সাধারণত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ এবং প্রেক্ষাপট কাজ করে। নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করলে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

  • ব্যাংক থেকে অনুমোদিত জমাতিরিক্ত ঋণ বা ওভারড্রাফট সুবিধা গ্রহণ করলে হিসাবের ব্যালেন্স ডেবিট হয়ে যায়।
  • একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা অবস্থায় ব্যাংক যদি কোনো চার্জ বা কিস্তি কেটে নেয় তবে স্থিতি ঋণাত্মক হতে পারে।
  • ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যখন ব্যাংক থেকে ক্যাশ ক্রেডিট বা সিসি লোন নেওয়া হয় তখন ওই হিসাবটি সবসময় ডেবিট ব্যালেন্স দেখায়।
  • অনেক সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা ভুলবশত জমার অতিরিক্ত টাকা উঠে গেলেও সাময়িকভাবে ডেবিট ব্যালেন্স তৈরি হতে পারে।

প্রভাব

ডেবিট ব্যালেন্স থাকা মানেই হলো গ্রাহক বর্তমানে ব্যাংকের কাছে ঋণী এবং এই অর্থের ওপর তাকে নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করতে হবে। ক্রেডিট ব্যালেন্সের ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে সুদ প্রদান করে কিন্তু ডেবিট ব্যালেন্সের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো হয়ে দাঁড়ায়। এটি গ্রাহকের জন্য একটি সাময়িক আর্থিক দায় হিসেবে গণ্য হয় যা পরবর্তী জমার মাধ্যমে সমন্বয় করতে হয়। নিয়মিত বিরতিতে এই স্থিতি বজায় থাকলে ব্যাংক গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর বা ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করে। তাই এই ধরনের ব্যালেন্স দীর্ঘসময় ধরে রাখা আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হতে পারে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায় যে ব্যাংক হিসাবের ডেবিট ব্যালেন্স হলো গ্রাহকের জন্য এক প্রকার দায় বা স্বল্পমেয়াদী ঋণ। এটি নির্দেশ করে যে ব্যাংক আপনাকে সাময়িকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে যা ভবিষ্যতে অবশ্যই পরিশোধযোগ্য। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আপদকালীন অর্থের প্রয়োজনে ডেবিট ব্যালেন্স বা ওভারড্রাফট সুবিধা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তবে অতিরিক্ত সুদ এবং জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে সর্বদা নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই করা এবং হিসাবের স্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।

ট্যাগস:

আইসিটি

কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।

© কফিপোস্ট ডট কম

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন