KOFIPOST

KOFIPOST

‘ভারত চুপ থাকবে না’: হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
অ+
অ-
‘ভারত চুপ থাকবে না’: হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে করা এক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

ফেসবুক

টেলিগ্রাম

গত সোমবার রাজধানীর শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত এক সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ একটি সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করে, তাহলে বাংলাদেশ ভারতবিরোধী শক্তি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলোকে আশ্রয় দিতে বাধ্য হতে পারে। তার দাবি, ভারত বর্তমানে অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি আরও বলেন, ভারতের যেকোনো প্রচেষ্টা যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অবৈধ হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়, তবে এর প্রতিরোধ শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিস্তৃত হতে পারে। হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং দেশটিকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে।

এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। তারা এই মন্তব্যকে বিপজ্জনক ও হুমকিস্বরূপ আখ্যায়িত করেছেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট করেন যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করা বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সংযুক্ত করার যে কোনো ধরনের ধারণা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং প্রত্যাখ্যাত। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের বক্তব্য বারবার শোনা যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী শর্মা জোর দিয়ে বলেন, ভারত একটি বৃহৎ রাষ্ট্র, পরমাণু শক্তিধর দেশ এবং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির অধিকারী। তার মতে, এ ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণই বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অযৌক্তিক। একই সঙ্গে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে জানান, শত্রুতামূলক আচরণ অব্যাহত থাকলে ভারত নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পিছপা হবে না।

উল্লেখ্য, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা নামে সাতটি রাজ্য অবস্থিত। এই সাতটি রাজ্যের মধ্যে চারটির সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে ভৌগোলিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।

© কফিপোস্ট ডট কম

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন