আসামের জ্যোতিকা হত্যাকাণ্ডের ছবি বাংলাদেশের বলে প্রচার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশঃ ৪ নভেম্বর ২০২৫, ৭:৪৩ এএম

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একজন নারীর মরদেহের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন তরুণীর মরদেহ। বিভিন্ন ব্যবহারকারী এই ছবি শেয়ার করে দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। ফ্যাক্টচেকঃ ফ্যাক্টওয়াচ।
তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া এই ছবিটি বাংলাদেশের নয়, বরং ভারতের আসাম রাজ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার। আলোচ্য ছবিটি আসলে ভারতের ধেমাজি জেলায় উদ্ধার হওয়া এক তরুণীর মরদেহের ছবি, যা সেখানকার স্থানীয় সামাজিক মাধ্যমে আগে থেকেই প্রচারিত হয়েছিল।
অনুসন্ধানে ভাইরাল ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে কনমানি রাজবংশী কনমানি নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই পোস্টে আলোচ্য ছবিটি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃতদেহ ধেমাজি জেলার গাইনদী রেলওয়ে ব্রিজের কাছে পাওয়া গেছে। মৃত নারীর সঙ্গে পাওয়া আধার কার্ডে ঠিকানা হিসেবে শিলআলী মজু গ্রাম, জামুগুরি পাথলি, বিষ্ণুপুর, ধেমাজি, আসামের কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে আরও খোঁজ নিতে ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ আসামে গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী আসামের ধেমাজি জেলার গাইনদী নদীর তীরে জ্যোতিকা কলিতা নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জ্যোতিকা ছিলেন ধেমাজি জেলার বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী গত ৯ অক্টোবর জ্যোতিকা বাড়ি থেকে ধেমাজি শহরে একটি পার্লারে প্রশিক্ষণ নিতে যান। বিকেল চারটার দিকে সেখান থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবার তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরদিন সকালে ধেমাজি শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে গাইনদী রেলওয়ে ব্রিজের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় কালচে দাগ এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের কাছেই AS22K2117 নম্বরের একটি স্কুটিও পাওয়া যায়, যা আগের ফেসবুক পোস্টেও দেখা গিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে জ্যোতিকাকে হত্যা করা হয়েছে।
সুতরাং স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ভারতের আসাম রাজ্যে ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ডের ছবিকে ভুল প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। প্রকৃত ঘটনাটি ভারতের ধেমাজিতে সংঘটিত হয়েছে এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে তা প্রতিবেদিত হয়েছে।
কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।
© কফিপোস্ট ডট কম
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন