KOFIPOST

KOFIPOST

ইসকন ইস্যুতে পুলিশ কমিশনারের বিতর্কিত বক্তব্য ভাইরাল, সমালোচনার মুখে প্রশাসন

ডেস্ক রিপোর্ট
অ+
অ-
ইসকন ইস্যুতে পুলিশ কমিশনারের বিতর্কিত বক্তব্য ভাইরাল, সমালোচনার মুখে প্রশাসন

গাজীপুর মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মুহাম্মদ জাহিদুল হাসানের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী মীর জাহান একটি ফেসবুক পোস্টে তার সঙ্গে টেলিফোন আলাপের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করার পর পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফেসবুক

টেলিগ্রাম

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভের সময় ডামি রাইফেল প্রদর্শনের অভিযোগে তুরাগ থানার পুলিশ একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনা এবং গাজীপুরে সাম্প্রতিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা জানতে মানবাধিকার কর্মী মীর জাহান গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনারকে ফোন করেন।

মীর জাহান তার ফেসবুক পোস্টে জানান, প্রথমে তিনি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য মেহেদী নামের একজনকে ফোন করলেও শেষ পর্যন্ত বিস্তারিত জানতে পারেননি। তুরাগ থানা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে এটা জানা না থাকায় তিনি গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের নম্বরে ফোন করেন।

ফোন আলাপে কমিশনার প্রথমে বেশ সদয়ভাবে জানান যে গ্রেফতারকৃত লোকটি বোকামি করেছে এবং তার কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে বহির্বিশ্বের ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, তুরাগ থানা তার অধীনে না হলেও তিনি দেখবেন কী করা যায়।

কিন্তু যখন মানবাধিকার কর্মী তাকে জিজ্ঞাসা করেন ১৩ বছরের একটি মেয়ের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিয়ে পুলিশ কেন প্রেমের কাহিনি সামনে এনেছে এবং গাজীপুরে কেন এতো অঘটন ঘটছে ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে না, তখন কমিশনারের আসল রূপ বেরিয়ে আসে।

কমিশনার জবাবে বলেন, শিক্ষিত লোক হয়েও মিডিয়ার কথায় বিভ্রান্ত হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তার দাবি অনুযায়ী দেশের কোথাও এখন ইসকন নেই এবং গাজীপুরে প্রতি মাসে হিন্দু-মুসলিম প্রেম সংক্রান্ত অন্তত ৫০টি ঘটনা ঘটে। কোথাও ইসকনের নাম শোনা যায়নি।

কমিশনার আরও বলেন, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে তিনি গ্রেফতারকৃত আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গুলি করে মারতেন। তিনি অভিযোগ করেন যে এই ব্যক্তি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য, আগে জেল খেটেছে এবং এখন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর হয়ে দেশে গণ্ডগোল পাকিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।

মীর জাহান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, আট মিনিট ২৩ সেকেন্ডের কথোপকথনে কমিশনার শুধুমাত্র আলেম-ওলামাদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তিনি ভারতের পত্রিকার খবরে কী লিখলো সেটা নিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হলেও বাংলাদেশের গণমাধ্যমের খবর বিশ্বাস করতে নিরুৎসাহিত করেছেন।

মানবাধিকার কর্মী তার পোস্টে লিখেছেন, এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার যে পুলিশের চরিত্র পাল্টায়নি। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে কমিশনার আলেমদের ওপর গুলি চালাতে পারতেন, এখন পারছেন না। ইসকনের এজেন্ট হয়ে তিনি আলেমদের বানিয়ে দিচ্ছেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দালাল। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আলেমসমাজ এবং রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ওপর করা মিথ্যা মামলাগুলোকে তিনি সঠিক মনে করছেন।

মীর জাহান তার পোস্টে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার গ্রামের মাদ্রাসা মারকাযুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়ার মুহতামিম মাওলানা আবদুল মুকিতকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ১৫ দিন গুম করে রাখার পর ঢাকায় গ্রেফতার দেখিয়ে জঙ্গি মামলা দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন পুলিশের উচ্চপদে এখনও পূর্ববর্তী সরকারের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মকর্তারা রয়েছেন যা জাতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।

ট্যাগস:

সামাজিক মাধ্যমইসকনধর্ষণ

কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।

© কফিপোস্ট ডট কম

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন