তিন হাজার টাকায় গর্ভপাত করিয়েছি, বান্ধবীর মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশঃ ৪ নভেম্বর ২০২৫, ৫:৫৪ এএম

শহরের বাইরে একজন সনোলজিস্ট হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় চিকিৎসকদের। তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সনোলজিস্ট ডা. ফাহমিদা মাহবুবা সম্প্রতি তার চেম্বারে ঘটে যাওয়া একটি অদ্ভুত কিন্তু বাস্তব ঘটনা শেয়ার করেছেন।
দুই তরুণী বান্ধবী এসেছিলেন তার চেম্বারে। দুজনেরই বয়স ২০ থেকে ২১ বছরের মধ্যে এবং উভয়েই অবিবাহিত। একজন ছিলেন রোগী, অন্যজন তাকে নিয়ে এসেছিলেন। রোগীর সমস্যা ছিল তলপেটে ব্যথা, জ্বর জ্বর অনুভূতি, ক্ষুধামান্দ্য, শারীরিক দুর্বলতা এবং মাঝেমধ্যে মাথা ঘোরা। পিরিয়ডের ইতিহাস জানতে চাইলে রোগী সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারেননি।
অবিবাহিত হওয়ায় সরাসরি কিছু জিজ্ঞাসা করা সংবেদনশীল বিবেচনা করে ডা. ফাহমিদা একটি আল্ট্রাসাউন্ড এবং প্রস্রাব পরীক্ষার পরামর্শ দেন। আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে দেখা যায় রোগী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসক জানান, এ ধরনের ঘটনা সনোলজিস্টদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে রোগী বিষয়টি অস্বীকার করে নাটকীয় আচরণ শুরু করেন।
ডা. ফাহমিদা তার অভিজ্ঞতায় বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে তিনি সবসময় নীরব থাকেন এবং শুধু রোগ নির্ণয় করে দেন। যেহেতু রোগী অবিবাহিত, তাই গর্ভপাত করাতে চাইছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক যেহেতু গর্ভপাত করান না এবং এ সংক্রান্ত পরামর্শও দেন না, তাই তিনি রোগীকে অব্যাহতি দেন।
তবে রোগী সেখানেই গর্ভপাত করাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। কান্নাকাটি এবং হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করতে থাকেন। পরে চিকিৎসক তাকে বুঝিয়ে হাসপাতালের কাউন্টারে পাঠান। কাউন্টার এবং চেম্বার পাশাপাশি হওয়ায় কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিল।
গর্ভপাত একটি অবৈধ প্রক্রিয়া হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বিষয়টিতে আগ্রহী ছিলেন। ফি নিয়ে দরকষাকষি চলছিল। এমন সময় রোগীর বান্ধবী উত্তেজিত হয়ে উচ্চস্বরে বলে ওঠেন, এখানে এত বেশি চান কেন, আমি তো গত মাসে মাত্র তিন হাজার টাকা দিয়ে করিয়েছি।
ঘটনাটি দেশে অবৈধ গর্ভপাত কতটা সহজলভ্য এবং নিয়মিত হয়ে উঠেছে তার একটি উদাহরণ। চিকিৎসকরা প্রায়ই এ ধরনের জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যেখানে আইনি এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা একসঙ্গে এসে দাঁড়ায়।
কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।
© কফিপোস্ট ডট কম
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন