KOFIPOST

KOFIPOST

সালমান শাহকে নিয়ে লেখা 'নক্ষত্রের আত্মহত্যা' বইটি কেন নিষিদ্ধ হয়েছিল?

মোঃ আব্দুল  আলিম
অ+
অ-
সালমান শাহকে নিয়ে লেখা 'নক্ষত্রের আত্মহত্যা' বইটি কেন নিষিদ্ধ হয়েছিল?

নব্বই দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে লেখা একটি বই একসময় দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সাংবাদিক রবি আরমান রচিত 'সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা' নামের গ্রন্থটি ১৯৯৭ সালে প্রকাশের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

ফেসবুক

টেলিগ্রাম

বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যুকে 'আত্মহত্যা' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা তার পরিবার তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে। বই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তিনি দাবি করেন, বইটিতে উল্লেখিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তার ছেলের স্মৃতির প্রতি অসম্মানজনক।

নীলা চৌধুরী লেখক ও প্রকাশক উভয়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এবং বইটির বিক্রয় ও বিতরণ তৎক্ষণাৎ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এর ফলে বাজার থেকে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি দুর্লভ এক বিতর্কিত দলিলে পরিণত হয়।

বইটির প্রচ্ছদের পেছনে লেখা ভূমিকায় বলা হয়েছিল, "আমাদের সিনেমার বাগানে একটি ফুল ফুটেছিল সুবাসিত ও উজ্জ্বল। নাম তার সালমান শাহ। চন্দ্রালোকে ভেসে যাওয়া সেই সফল ও উচ্ছল যুবকের দেহে বিঁধেছিল গোপন এক বিষকাঁটা। অন্তর্লীন যাতনায় নীল হয়ে এক শুভ্রসকালে হঠাৎ সে আত্মদংশনে হারিয়ে যায়।"

ভূমিকায় আরও উল্লেখ করা হয়, "দুর্ভেদ্য রহস্যের পর্দা সরিয়ে সালমানচরিতের সেই গোপনগাঁথা উঠে এসেছে এক অন্তরঙ্গজনের সাহসী কলমে। ঢাকার সিনেমা বলয়ের এক উজ্জ্বল সময় ও সেই সময়ের মহানায়ক সালমান শাহকে ঘিরে এটি এক বিরল দলিল।"

বইটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে রহস্য ও জল্পনা আরও বেড়ে যায়। তার পরিবার ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে যে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। এই বিতর্ক আজও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে একটি অমীমাংসিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।

সূত্র: বাংলা এডিশন

কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।

© কফিপোস্ট ডট কম

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন