জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপনে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়
মোঃ মাসুদ রানা
প্রকাশঃ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫১ এএম

শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপনের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন স্বাক্ষরিত এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী, শ্রেণি শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে প্রতি বছর সরকার এই কর্মসূচি পালন করে আসছে। নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে এই কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সহপাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। মোট ১৯টি ইভেন্টে যোগ্য, মেধাবী এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান প্রধান, শ্রেণি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরপেক্ষভাবে বাছাই করে পুরস্কৃত করা হবে।
প্রতিযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পর্যায়ে শিক্ষার্থী বা দল নির্বাচন করে উপজেলায় পাঠাবে। উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা জেলা পর্যায়ে, জেলার বিজয়ীরা অঞ্চল পর্যায়ে এবং অঞ্চলের বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারক প্যানেল মূল্যায়ন করবেন।
প্রতিযোগিতার ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে কেরাত, হামদ, নাত, বাংলা ও ইংরেজি রচনা প্রতিযোগিতা। রচনা প্রতিযোগিতার বিষয় বিচারকরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করবেন এবং প্রতিযোগীরা ৩০ মিনিট সময় পাবেন। এছাড়া থাকছে ইংরেজি বক্তব্য, বাংলা কবিতা আবৃত্তি এবং উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা।
সংগীত বিভাগে দেশাত্মবোধক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, উচ্চাঙ্গসংগীত, লোকসংগীত এবং দলভিত্তিক জারীগান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লোকসংগীতের আওতায় থাকবে ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, পল্লীগীতি ও লালনগীতি। নৃত্য প্রতিযোগিতায় উচ্চাঙ্গ নৃত্য ও লোকনৃত্য বিভাগ রয়েছে।
নির্ধারিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার বিষয় হবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, বাংলাদেশ উন্নয়ন ভাবনা অথবা শিক্ষা সংক্রান্ত। এছাড়াও তাৎক্ষণিক অভিনয় এবং দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হবে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্যোগ জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: আমার দেশ
কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।
© কফিপোস্ট ডট কম
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন