ভূমিকম্প হলে কী করবেন? জেনে নিন নিরাপদ থাকার উপায়
মোঃ মাসুদ রানা
প্রকাশঃ ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ৫:৪৮ পিএম

সম্প্রতি শুক্রবারের প্রবল ভূমিকম্পে সারা দেশ দ্রুত কেঁপে উঠেছে, যা অসংখ্য মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরের দিন শনিবার আফটারশকে পুনরায় দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে এবং জনগণের ভীতির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।
যদিও এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ অপ্রত্যাশিত ও ভয়ঙ্কর মনে হয়, বিশেষজ্ঞরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরছেন। তাদের মতে, সঠিক তথ্যের অভাব এবং ভুল তথ্যের প্রসারই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের প্রভাষক জাওয়াদ ইবনে ফরিদ বলেছেন যে ভূমিকম্প প্রতিরোধে বিভ্রান্তি ও অপতথ্য সবচেয়ে বড় বাধা।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের ভুল পূর্বাভাস ছড়িয়ে পড়ছে যা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। জাওয়াদ ইবনে ফরিদ স্পষ্ট করেছেন যে আজ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে ভূমিকম্পের কোনো সঠিক পূর্বাভাস সম্ভব হয়নি। অনেক মানুষ এই অপতথ্যের শিকার হয়ে অনাবশ্যক তাড়াহুড়ো করে ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে এবং এর ফলে গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
তবে ভালো খবর হল যে বারবার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক সুরক্ষা নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে প্রতিটি নাগরিককে ভূমিকম্পের সময় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের পদ্ধতি জানা অত্যন্ত জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি তাৎক্ষণিক সুরক্ষা পদ্ধতি প্রকাশ করেছে যা ডিসিএইচ নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিটি তিনটি মূল ধাপে বিভক্ত যা ভূমিকম্পের সময় অবলম্বন করলে গুরুতর আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
ভূমিকম্পের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভূমিকম্পের সময় নিচে ঝুঁকুন, ঢেকে রাখুন এবং ধরে থাকুন। এই তিনটি কাজ একসাথে অনুসরণ করলে নিরাপত্তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা পাওয়া যায়। মাটি কাঁপতে শুরু করলে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া কমিয়ে দ্রুত কাছের কোনো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। ঝাঁকুনি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং বাইরে যাওয়া নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘরের ভেতরে অবস্থান করা উচিত।
যদি ঘরের ভেতরে থাকেন
- একটি মজবুত ডেস্ক, টেবিল বা বেঞ্চের নিচে অবিলম্বে আশ্রয় নিন
- বিকল্প হিসেবে ঘরের ভেতরের কোনো শক্তিশালী দেয়ালের পাশে বসে পড়ুন এবং শক্ত করে ধরে থাকুন
- যদি আসবাবপত্র পাওয়া না যায় তাহলে মুখ ও মাথা হাত দিয়ে সুরক্ষিত করে ভেতরের দেয়ালের পাশে বসুন
- কাচের জানালা, বাইরের দরজা, বাহ্যিক দেয়াল, লাইট ফিক্সচার এবং উঁচু আসবাবপত্রের কাছ থেকে সর্বদা দূরে থাকুন
- কোনো পরিস্থিতিতেই এলিভেটর বা লিফট ব্যবহার করবেন না
যদি বিছানায় থাকেন
- সেখানেই মাথা বালিশ দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে রাখুন
- যদি ভূমিকম্পের কারণে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে তাহলে বিছানার পাশে মেঝেতে আশ্রয় নিন
- এই অবস্থায় আপনি নিরাপদ থাকবেন এবং সরাসরি পতনশীল বস্তুর আঘাত এড়াতে পারবেন
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
- ভবন থেকে জরুরিভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না কারণ বেশিরভাগ মানুষ বাইরে বের হতে গিয়ে পড়ন্ত বস্তু দ্বারা গুরুতরভাবে আহত হন
- বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে যা অন্ধকার সৃষ্টি করবে
- পানির পাইপ ফেটে যেতে পারে এবং ক্ষতি করতে পারে
- নিরাপত্তা অ্যালার্ম বাজতে পারে যা আপনাকে অতিরিক্ত আতঙ্কিত করবে
যদি বাইরে থাকেন
- বাইরেই অবস্থান করুন এবং নিরাপদ স্থানে যান
- ভবন থেকে যথাসম্ভব দূরে সরে যান কারণ ভবনের অংশ পড়ে আসতে পারে
- বড় গাছ, স্ট্রিটলাইট এবং বৈদ্যুতিক তারের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন
যদি গাড়িতে থাকেন
- নিরাপদ মনে হলে গাড়ি থামিয়ে রাস্তার পাশে নিন এবং গাড়ির ভেতরেই থাকুন
- ভবন, উঁচু গাছ, ওভারপাস বা বৈদ্যুতিক তারের নিচে বা খুব কাছে গাড়ি পার্ক করবেন না
- ক্ষতিগ্রস্ত সেতু বা ওভারপাসের উপর দিয়ে বা নিচ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না
- ভূমিকম্প থামার পর সাবধানে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যান
- রাস্তা বা সেতুতে ফাটল বা অন্য কোনো ক্ষতির চিহ্ন খেয়াল করুন
যদি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন
- কোনো আগুন জ্বালাবেন না কারণ এটি পরিস্থিতি আরও জটিল করে দেবে
- রুমাল বা কাপড় দিয়ে নাক ও মুখ সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখুন
- ধুলো কম উড়ানোর জন্য যতটা সম্ভব নড়াচড়া কম করুন
- উদ্ধারকারীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পাইপ বা দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে শব্দ করুন
- যদি বাঁশি থাকে তাহলে তা ব্যবহার করুন কারণ এটি চিৎকারের চেয়ে বেশি কার্যকর
- শেষ উপায় হিসেবে কেবলমাত্র চিৎকার করুন কারণ অত্যধিক চিৎকারের সময় ধ্বংসস্তূপের ধুলো শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে
কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।
© কফিপোস্ট ডট কম
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন