সুদানে গণহত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতে ‘গণকবর খুঁড়ে’ মরদেহ চাপা দিচ্ছে আরএসএফ
মোঃ মাসুদ রানা
প্রকাশঃ ৫ নভেম্বর ২০২৫, ২:৪৬ পিএম

সুদানের পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের আল-ফাশের শহরে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস গণকবর খনন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক জানিয়েছেন, গত মাসে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে সেখানে গণহত্যা ও গণ উচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে এবং মূলত গণহত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতে এসব গণকবর খোঁড়া হচ্ছে। খবর: আল জাজিরা
ইয়েলের স্কুল অব পাবলিক হেলথের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের নির্বাহী পরিচালক ন্যাথানিয়েল রেমন্ড মঙ্গলবার জানান, আরএসএফ শহরজুড়ে গণকবর খনন শুরু করেছে এবং মরদেহ সংগ্রহ করছে। তিনি বলেন, তারা গণহত্যার চিহ্ন মুছে ফেলার কাজে লিপ্ত রয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর আরএসএফ উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশেরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে সুদানি সেনাবাহিনী শহরটি থেকে সরে যায়। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দুই বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
জাতিসংঘের (ইউএন) হিসাব অনুযায়ী, আরএসএফ শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে আল-ফাশের ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, সেখানে তাৎক্ষণিক হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে।
ইয়েলের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আরএসএফ শহরটি দখলের পর থেকে গণহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে রক্তের দাগ ও দেহ টেনে নেওয়ার চিহ্নও দেখা গেছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে সতর্ক করেছেন, শহরটিতে হাজার হাজার মানুষ এখনো আটকা পড়ে আছে।
সুদানে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জ্যাকুলিন উইলমা পারলেভলিয়েট জানান, বর্তমান অস্থিতিশীলতা শহরে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে আটকে পড়া মানুষদের কাছে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সুদানি সাংবাদিক আবদাল্লাহ হুসেইন জানান, আরএসএফ পুরোপুরি দখল নেওয়ার আগেই আল-ফাশের শহরটি ১৮ মাস ধরে তাদের অবরোধে ছিল। তিনি বলেন, কোনো ত্রাণ শহরে প্রবেশ করতে পারেনি। কোনো হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র চালু ছিল না। এখন অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে গেছে যারা শহরে রয়ে গেছে তাদের জন্য।
বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে আরএসএফ ও তাদের সমর্থকেরা আল-ফাশেরের হত্যাযজ্ঞের দায় অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। আরএসএফের নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি হেমেদতি নামেও পরিচিত, ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কিন্তু ইয়েলের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের রেমন্ড বলেন, যদি তারা সত্যিই তদন্ত করতে চায় তাহলে শহর থেকে সরে যেতে হবে। জাতিসংঘ, রেডক্রস ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীদের প্রবেশ করতে দিতে হবে, ঘরে ঘরে গিয়ে দেখতে দিতে হবে কে বেঁচে আছে।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আরএসএফকে তাদের কৃতকর্মের তদন্ত নিজেদেরই করতে দেওয়া যায় না। রেমন্ড আরও বলেন, জাতিসংঘের তথ্য ও আল-ফাশেরে যা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে গত ১০ দিনে সেখানে যত মানুষ মারা গেছে তা গত দুই বছরে গাজায় নিহতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা এমন ভয়াবহতার কথাই বলছি, এটা কোনো অতিরঞ্জন নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাজার হাজার মানুষ এখনই জরুরি সহায়তা দরকার। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।
© কফিপোস্ট ডট কম
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন