তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী? ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে ধারণা
মোঃ মাসুদ রানা
প্রকাশঃ ৭ নভেম্বর ২০২৫, ৮:২৩ এএম

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমরা এমন এক সময়ে পৌঁছেছি যেখানে বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা ক্রমশ মুছে যাচ্ছে। এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিস্ময়কর প্রযুক্তি যার নাম ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। একটি সাধারণ শ্রেণিকক্ষে ভূগোলের পাঠ থেকে শুরু করে জটিল সার্জিক্যাল অপারেশনের প্রশিক্ষণ পর্যন্ত, এই প্রযুক্তি আমাদের শেখা, কাজ করা এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের ধরন সম্পূর্ণভাবে বদলে দিচ্ছে।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং এর ধারণা
নামকরা একটি স্কুলের ভূগোল শিক্ষক মোহাম্মদ উল্লাহ চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে পড়াচ্ছেন। তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে লেকচার দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছেন কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের যথাযথভাবে আকর্ষিত করে মনোযোগী করতে পারছেন না। দশ মিনিট পর মোহাম্মদ উল্লাহ স্যার শিক্ষার্থীদের নিয়ে কম্পিউটার ল্যাবে আসলেন। ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট সবাইকে মাথায় বিশেষ হেলমেট এবং হাতে গ্লাভস ও পায়ে বিশেষ যন্ত্রপাতিসম্পন্ন জুতা পরিয়ে দিলেন।
হঠাৎ করেই শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে দেখল তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এসে পৌঁছেছে। তাদের সামনে রয়েছে বিশাল সমুদ্র। বিশাল বিশাল ঢেউ এসে তীরে আছড়ে পড়ার শব্দ ভেসে আসছে। সমুদ্রের তর্জন গর্জন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। শো শো করে বাতাস বইছে। পেছন থেকে পাখির কলকাকলি ভেসে আসছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থী সমুদ্রের পানির দিকে এগিয়ে গেল। আস্তে আস্তে পানিতে নেমে পড়ল কেউ কেউ। পায়ে পানির ঠান্ডা অনুভূতি পাচ্ছে তারা। কেউ নিচু হয়ে হাত দিয়ে পানি স্পর্শ করল এবং ঠান্ডা পানির স্পর্শ অনুভব করল। সমুদ্রের তীর ধরে কিছুক্ষণ হাঁটল তারা। মাত্র কিছুক্ষণ আগে তারা ক্লাসে যা পড়ল এখন বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে এবং সবাই তা অনুভব করছে।
এভাবে পনেরো মিনিটের মতো তারা বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ সমুদ্র সৈকতে বিচরণ করে বাস্তবে অনেক কিছু দেখতে থাকল। একসময় সব কিছু অন্ধকার হয়ে গেল। কম্পিউটার ল্যাবের সহকারী তাদের সবার হেলমেট খুলে দিলেন। শিক্ষার্থীরা তন্ময় হয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকল। এও কি সম্ভব! তারা কি স্বপ্ন দেখছে? ক্লাসের অমনোযোগী ছাত্রছাত্রীরাও একই রকম তন্ময় হয়ে বসে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবার ঘোর কাটল। মোহাম্মদ উল্লাহ স্যার মুচকি হেসে ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন করলেন, তোমরা কোথায় গিয়েছিলে? সবাই সমস্বরে জবাব দিল কক্সবাজার, স্যার। এই হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মৌলিক ধারণা
প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেককারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা অনুভবে বাস্তবতা কিংবা কল্পবাস্তবতা বলা হয়। একে সংক্ষেপে ভিআর বলা হয়ে থাকে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Vizard, VRToolKit, 3D Studio Max, Maya ইত্যাদি।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রিমাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। কল্পনার পাখায় ভর করে ইচ্ছা করলে চাঁদের মাটিতে হেঁটে আসা, প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম অঞ্চলে ঘুরে আসা, মানুষের মস্তিষ্কের নিউরাল সংযোগের ওপর দিয়ে হাঁটা কিংবা জুরাসিক পার্কের সেই অতিকায় ডাইনোসরের তাড়াও খাওয়া যায়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ যেখানে ব্যবহারকারী ঐ পরিবেশে মগ্ন হতে পারে, বাস্তবের অনুকরণে সৃষ্ট দৃশ্য উপভোগ করতে পারে, সেই সাথে বাস্তবের ন্যায় শ্রবণানুভূতি এবং দৈহিক ও মানসিক ভাবাবেগ, উত্তেজনা অনুভূতি প্রভৃতির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপাদানসমূহ
একটি পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবস্থা গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রয়েছে হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে, রিয়েলিটি ইঞ্জিন, ডেটা গ্লাভ, বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, একটি পূর্ণাঙ্গ বডি স্যুট, বিভিন্ন সিমুলেশন, মডেলিং ও গ্রাফিক্স, উচ্চ মানের অডিও ব্যবস্থা এবং বিশেষায়িত সফটওয়্যার।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি তৈরির মূল উপাদানগুলো আরও বিস্তারিতভাবে বোঝার জন্য এদের চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়।
- ইফেক্টর হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহৃত এক বিশেষ ধরনের ইন্টারফেস ডিভাইস। এটি ব্যবহারকারীকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশের সাথে সংযুক্ত করে। হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে বা এইচএমডি, ডেটা গ্লাভ, পূর্ণাঙ্গ বডি স্যুট ইত্যাদি এর উদাহরণ।
- রিয়েলিটি সিমুলেটর এক ধরনের হার্ডওয়্যার যা ইফেক্টরকে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করে। বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, ট্রান্সসিউডার, উচ্চ মানের অডিও ও ভিডিও ব্যবস্থা, রিয়েলিটি ইঞ্জিন ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত।
- অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে ভার্চুয়াল পরিবেশ ও প্রাসঙ্গিকতা তৈরিতে বিভিন্ন সিমুলেশন সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অটোডেস্কের তৈরি ডিভিশন যা সাধারণত ইন্টেল প্রসেসর সংবলিত পিসিতে ব্যবহৃত হয় তার একটি উদাহরণ।
- জিওমেট্রি হলো ভার্চুয়াল পরিবেশের বিভিন্ন বস্তুর বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত তথ্যাবলি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহৃত ত্রিমাত্রিক মডেলসমূহকে অটোডেস্ক, থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স বা মায়া প্রভৃতি সফটওয়্যার ব্যবহার করে তৈরি করার পর এই ফাইলগুলোকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে রেন্ডারিং ও অথরিং এর জন্য এক্সপোর্ট করা হয়ে থাকে।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ঐতিহাসিক পটভূমি
ফরাসি নাট্যকার, কবি, অভিনেতা ও নির্দেশক অ্যান্টোনিন আরচিউড এর ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ The Theatre and Its Double-এ তিনি সর্বপ্রথম ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে ডেমিয়েন ব্রডরিক এর The Judas Mandala নামক সায়েন্স ফিকশনেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দটি ব্যবহার হয়।
১৯৬১ সালে মর্টন এল হেলিগ তার সেনসোরামা স্টিমুলেটর নামক যন্ত্র দিয়ে প্রথম বাস্তব উপায়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে উপস্থাপন করলেও এর সাথে কম্পিউটারের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আধুনিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয় ১৯৮০ সাল থেকে। ১৯৮৪ সালে হ্যাকার লেনিয়ার তার ভিপিএল রিসার্চ কর্পোরেশনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন যা আজকের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির জন্ম দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত।
সম্প্রতি গুগলও Lively নামে ভার্চুয়াল চ্যাটিং সার্ভিস চালু করেছে যেখানে একটি ভার্চুয়াল কক্ষ বা পরিবেশে যে কেউ তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে প্রবেশ করতে পারে। সেখানে ইচ্ছেমতো বস্তু দিয়ে সাজানো, বন্ধুদের সাথে মারামারি, নাচানাচি, আবেগের গ্রাফিক্যাল প্রকাশ ইত্যাদি সম্ভব।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
শব্দ হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির একটি অপরিহার্য উপাদান। এতে শব্দ কোনো বিশেষ স্থান থেকে উৎসারিত এবং ডায়নামিক। এই প্রযুক্তিতে ত্রিমাত্রিক শব্দ যুক্ত করা হয় যাতে করে শব্দের কারণে এক ধরনের পরাবাস্তব ত্রিমাত্রিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দৃষ্টি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চশমা কিংবা হেলমেটের মধ্যে ছোট আকারের পর্দা থাকে এবং বহুমাত্রিক ডিসপ্লে ব্যবহৃত হয়। এতে করে ব্যবহারকারী একেবারে বাস্তবের ন্যায় অথচ পরাবাস্তব বা কল্পবাস্তব দৃশ্য অবলোকনে সক্ষম হয়।
মস্তিষ্ক এর ওপর পরিচালিত গবেষণা কম্পিউটার জেনারেটেড ওয়ার্ল্ডকে নতুন অবয়ব দিয়েছে, যার সাহায্যে তথ্যকে যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা যায় এবং কৃত্রিমভাবে তার অনুভূতি মস্তিষ্কের জন্য প্রেরণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে মস্তিষ্কে বিভিন্ন কৃত্রিম স্টিমুলেশন প্রদান করে নানা পরাবাস্তব দৃশ্যের কৃত্রিম অনুভূতি বাস্তবের ন্যায় সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। স্পর্শ অনুভূতি সৃষ্টিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের জুতা, গ্লাভস বা শরীরের বিশেষায়িত পোশাক একজন ব্যক্তিকে কৃত্রিমভাবে প্রকৃত বাস্তবের ন্যায় অবস্থার কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
টেলিপ্রেজেন্স হলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক দূর থেকে কাজ পরিচালনার প্রক্রিয়া। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে টেলিপ্রেজেন্স প্রক্রিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বৈমানিকগণ আসল বিমান চালানোর পরিবর্তে হুবহু আসলের ন্যায় কৃত্রিম বিমান পরিচালনায় ভার্চুয়াল পরিবেশে ট্রেনিং গ্রহণ করতে পারেন বা ড্রাইভারগণ কৃত্রিমভাবে তৈরি বাস্তব সদৃশ পরিবেশে প্রাক-ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
বাংলাদেশে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
দেশের মানুষ বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলা এবং বিনোদনের মাধ্যমে মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং ২০০৪ সাল থেকে দর্শকদের জন্য চালু করা হয়। ঢাকা শহরের বিজয় সরণিতে অবস্থিত এই স্থাপনায় নভোমণ্ডল সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এবং নভোমণ্ডলের ধারণা পাওয়ার জন্য কৃত্রিম নভোমণ্ডল তৈরি করা আছে।
নভোথিয়েটারে অ্যাক্রোবেটিক এ্যারোপ্লেন, রেসিং কার, স্পেস ক্র্যাফট, মনোরেল, এয়ারক্র্যাফট ফাইটার এবং প্রাচীন পিরামিডের কোস্টারে চড়ে ভ্রমণের শিহরণ লাভের জন্য অনুভূমিক ও উল্লম্বভাবে গতিবিশিষ্ট স্পেস রাইড সিমুলেটর রয়েছে। এখানে প্রদর্শিত মহাকাশবিষয়ক ফিল্ম জার্নি টু ইনফিনিটি দেখলে মনে হবে বাস্তবে মহাকাশে ভ্রমণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন পার্কে নভোযান অথবা কার সিমুলেটর রয়েছে যেগুলোতে বাস্তবের ন্যায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। বাংলাদেশ পুলিশের মহিলা পুলিশদের কার ড্রাইভিং শেখানোর জন্য কার সিমুলেটর ব্যবহার করছে।
প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বহুমুখী প্রয়োগ
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের জন্য পেশাজীবীদের বাস্তবসম্মত ও নিরাপদ প্রশিক্ষণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে চিকিৎসা, গাড়ি বা বিমান চালনা, সামরিক বা যুদ্ধ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রগুলোতে বিভিন্নভাবে শারীরিক কিংবা রিসোর্সগত যে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে সেগুলো সহজেই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাপদ করে তোলা সম্ভব।
যেমন বাস্তবে বিমান চালনা বা গাড়ি চালনার দুর্ঘটনার শঙ্কা, চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক অপারেশনে রোগীর প্রাণ সংহারের আশঙ্কা কিংবা সামরিক বা যুদ্ধ প্রশিক্ষণে সরাসরি আহত বা নিহত হবার শঙ্কাগুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে পরাবাস্তব পরিবেশে একেবারেই নেই। কেননা এখানে সম্পূর্ণ কৃত্রিম পরিবেশ বা উপাদান ব্যবহার করে বাস্তবের মতো অবিকল দৃশ্য, মডেল এবং পরিবেশ তৈরি করা হয় যেগুলো কোনো কিছুই বাস্তব নয়। আবার বাস্তব না হলেও এগুলো পুরোপুরি বাস্তবের মতো বিধায় প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাস্তবতার অভাবে প্রশিক্ষণটি অসম্পূর্ণ বা বিফলতায় পর্যবসিত হয় না।
একইভাবে এটি শিক্ষা, বিনোদনসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যথা:
১. শিশু শিক্ষায় নতুন দিগন্ত
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে আকর্ষণীয়ভাবে শিক্ষা প্রদান করা যায়। বর্তমানে উন্নত বিশ্বে শিশুদের শিক্ষায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান প্রতিটি বিষয়ে শিশুরা শুধু বই পড়ে নয়, বরং সেই বিষয়ে প্রবেশ করে হাতেকলমে শিখতে পারছে। একটি ডায়নোসরের ছবি দেখা আর ডায়নোসরের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে অনুভব করার মধ্যে যে বিস্তর পার্থক্য, তা শিশুমনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং শেখাকে স্থায়ী করে তোলে।
২. চিকিৎসাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
উন্নত বিশ্বে ডাক্তারদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণে এমআইএসটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ল্যাপরোস্কোপিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ফলে অত্যন্ত সহজে ও সুবিধাজনক উপায়ে বাস্তবে অপারেশন থিয়েটারে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। জটিল সব অপারেশন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়গুলোর গঠন ও কার্য পর্যালোচনা, ডিএনএ পর্যালোচনা প্রভৃতি সম্পর্কে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কল্যাণে ব্যাপকভাবে জানা ও গবেষণা চালানো সম্ভব। নবীন শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, রোগ নির্ণয় প্রভৃতি কাজেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
মনোচিকিৎসকগণ মানসিক রোগীদের সাইকোথেরাপি দিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করেন যার ফলে মানসিক রোগীদের জীবন দর্শনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জিক্যাল ট্রেইনার হলো একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিমুলেটর যা দ্বারা বাস্তবের মতো জীবন্ত মানুষের ওপর মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অপারেশন করা শেখানো হয়।
৩. কার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে নিরাপদ পদ্ধতি
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ড্রাইভিংয়ের নানা নিয়মকানুন খুব সহজেই আয়ত্ত করা সম্ভব। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে বাস্তবের মতো রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে প্রশিক্ষণার্থী খুব সহজেই বাস্তবে গাড়ি চালানোর সাহস অর্জন করে দ্রুত গাড়ি চালনা শিখতে পারে। রাস্তায় প্রকৃত গাড়ি নিয়ে প্রশিক্ষণের সময় যে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে তা এখানে একেবারেই নেই।
৪. বিমান চালনার নিরাপদ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা
উন্নত বিশ্বের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা কিংবা সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিমান পরিচালনা প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করছে। এজন্য ফ্লাইট সিমুলেটর ব্যবহার করা হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ফ্লাইট সিমুলেশনের ক্ষেত্রে স্বল্প খরচে বিমান চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হয়। ফ্লাইট সিমুলেশন হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে কাজে লাগিয়ে বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেমসমূহ যেমন ফ্লাইট সিমুলেটরসমূহের মাধ্যমে সিভিলিয়ান কিংবা মিলিটারি পাইলটদের সত্যিকারের বিমান ছাড়াই সেটি চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এতে একদিকে যেমন প্রশিক্ষণ ব্যয় কমে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে না।
৫. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনয়ন
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রতিটি যানচালক গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চালকগণ যদি তাদের যান চালনায় পারদর্শী হয় তাহলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হয়। রেলপথ এবং জলপথে চলাচলকারী যানের ক্ষেত্রে একইভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে রেল চালককে রেল চালনার রুট, জরুরি মুহূর্তে করণীয় বিষয়াবলি পূর্বেই শেখানো যায়। জলযানের ক্ষেত্রে সঠিক গন্তব্যে সাবধানতার সাথে কীভাবে তা পরিচালনা করা যায় তার কাল্পনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে যান চলাচলে গতিশীলতা সৃষ্টি করা সম্ভব।
৬. সেনাবাহিনীতে যুদ্ধ প্রশিক্ষণে কার্যকর ব্যবহার
বিভিন্ন বিরূপ পরিবেশে শত্রুর সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অত্যাধুনিক অনেক যুদ্ধাস্ত্র সঠিকভাবে ব্যবহার, রাতে যুদ্ধ পরিচালনা, শত্রুর অবস্থান নির্ণয় ইত্যাদি কাজ নিখুঁতভাবে করার জন্য বর্তমানে অনেক দেশের সেনাবাহিনীতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগেই সৈনিকরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
৭. ব্যবসায় বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা
ব্যবসায়িক কোনো পরিবেশে ভার্চুয়াল ট্যুর, নতুন কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, কোনো পণ্যের প্রদর্শন ইত্যাদি অনেক ব্যবসায়ে অনেক কম মূল্যে কোনো পণ্য উন্নয়ন এবং সেবা প্রদানের জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক খরচ কমার পাশাপাশি গ্রাহকদের আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।
৮. মহাশূন্য অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
মহাশূন্য অভিযানের প্রতিটি পর্বেই রয়েছে নানা ধরনের ঝুঁকি। প্রস্তুতি পর্বের নানা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষানিরীক্ষা, নভোচারীদের কার্যক্রম, নভোযান পরিচালনা সম্পর্কিত যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণে তাই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। কাল্পনিক পরিবেশে মহাকাশে গবেষণা পরিচালনার বিষয়গুলো, মহাশূন্যে খাপ খাওয়ানোর মতো বিষয়গুলো পূর্বেই প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন নভোচারীগণ। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং মহাকাশে গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।
৯. গেমস তৈরিতে নতুন মাত্রা
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে বর্তমানে বিভিন্ন আকর্ষণীয় গেমস তৈরি করা হচ্ছে। Xbox 360, PS2 এবং কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমস রয়েছে। লিনডেন ল্যাবস কর্তৃক সেকেন্ড লাইফ, নিনটেনডো এর Wii এবং ইলেক্ট্রনিক আর্টস এর The Sims ইত্যাদি জনপ্রিয় গেমস এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।
১০. প্রকৌশল ও নগর উন্নয়নে অগ্রগতি
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রকৌশল বিভাগে ত্রিমাত্রিক মডেলিং টুলস এবং পরিকল্পনার নকশা দেখার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রকৌশলীরা তাদের ত্রিমাত্রিক প্রকল্প দেখতে পারেন এবং কীভাবে প্রকল্পটি কাজ করবে তা ভালোভাবে বুঝতে পারেন। কোনো ডিজাইন চক্রের শুরুতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে কোনো ডিজাইনে ত্রুটি থাকলে সংশোধন করা যায়। নগর পরিকল্পনায় ত্রিমাত্রিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এর প্রয়োগ ঘটিয়ে নগর উন্নয়ন রূপরেখা, নগর যাতায়াত ব্যবস্থা ইত্যাদি সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে বর্ণনা করা যায়।
১১. শিল্প কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উন্নতি
শিল্প কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও সিমুলেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ডিজাইন কিংবা প্রয়োগসমূহের ভার্চুয়ালাইজেশন করা হয়। এর ফলে প্রকৃত উৎপাদন শুরুর পূর্বে পণ্যের ডিজাইনে কিংবা আউটপুটের যে কোনো ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনের মাধ্যমে উৎপাদন সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
১২. খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় প্রয়োগ
গলফ, অ্যাথলেটিক্স, স্কেটিং, সাইক্লিং ইত্যাদি খেলায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ট্রেনিং কিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শরীরচর্চায় দক্ষতা পরিমাপ, কৌশল বিশ্লেষণের কাজে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে খেলোয়াড়দের পোশাক, যন্ত্রপাতি এবং কৌশল নির্ধারণ করা যায়।
১৩. বিনোদন ও মিডিয়াক্ষেত্রে বৈচিত্র্য
বিনোদনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশনের প্রোগ্রামে নতুন বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে নির্মিত ইংরেজি চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে The Lawnmower Man, The Matrix, Tron, The Thirteenth Floor, eXistenZ, Vanilla Sky ইত্যাদি। তাছাড়াও সংগীত, বই তৈরি, বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী ইত্যাদিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।
১৪. ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় অবদান
জাদুঘরে ব্যাপকভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিষয় যেমন কোনো প্রাচীন গুহা, ভাস্কর্য, ঐতিহাসিক ভবন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রভৃতি প্রদর্শনে জাদুঘরে বা বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণাতেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে জাদুঘরে যেমন আগত দর্শনার্থীরা এ সমস্ত বিষয়গুলো পরিদর্শনে জ্ঞান ও আনন্দ লাভ করতে পারেন তেমনি আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষকরাও প্রাচীন পৃথিবী সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিবাচক প্রভাব ও সুফল
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি আধুনিক যুগে মানবজীবনে অসংখ্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন কার্যক্রমে যৌক্তিকভাবে খরচ কমিয়ে সাশ্রয়ী উপায়ে কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে। বাস্তবায়নের পূর্বেই পরিবেশ, পরিস্থিতি ও ফলাফলকে কৃত্রিমভাবে অনুভব করা যায় বিধায় তা অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত, অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয় ঘটনাকে রোধ করতে সক্ষম।
যেকোনো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে আকর্ষণীয়, হৃদয়গ্রাহী, বাস্তবসম্মত এবং সর্বোচ্চভাবে নিরাপদ করতে পারে এই প্রযুক্তি। ঝুঁকিপূর্ণ যেকোনো প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, প্রাণনাশ প্রভৃতির সম্ভাবনা শূন্যে নামিয়ে আনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। সামরিক প্রশিক্ষণ, মহড়া, কোনো উৎপাদিত ধ্বংসাত্মক পণ্যসমূহের মান যাচাইয়ের পরীক্ষাসমূহ বিষয়টি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হলে তা পরিবেশ দূষণ ও বিপর্যয় রোধ করে। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থাকে সহজ ও ঝুঁকিহীন করে তোলে এই প্রযুক্তি।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির নেতিবাচক প্রভাব
ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
- চড়া দাম এবং জটিলতা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির একটি বড় সমস্যা। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সরঞ্জামাদির দাম অনেক চড়া হওয়ার কারণে সাধারণের মধ্যে এর প্রসার এবং জটিলতা নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্নতায় আছেন। অনেক সময় এর হ্যান্ডসেটের গতি ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক গতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে পারে না।
- স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দিক রয়েছে এই প্রযুক্তির। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এটি মানুষের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির ক্ষতিসাধন করতে পারে।
- কল্পনার জগতে বিচরণ করার সুযোগ দেয় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে মানুষ তার কল্পনার রাজ্যে ইচ্ছেমতো বিচরণ করতে পারে। অনেক সময় ধরে কল্পনার জগতে থাকলে বাস্তবতা থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- মনুষ্যত্বহীনতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে মানুষ বাস্তবিকের চেয়ে ভালো পরিবেশ ও মনের মতো সঙ্গী পেতে পারে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যাপক প্রসারের কারণে মানুষের পারস্পরিক ক্রিয়া হ্রাস পেতে পারে এবং মনুষ্যত্বহীনতা বেড়ে যেতে পারে।
উপসংহার
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যা মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ, বিনোদন এবং আরও বহু ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এর কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে, তবে সঠিক ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান রাখতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত ও সহজলভ্য হলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।
© কফিপোস্ট ডট কম
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন