KOFIPOST

KOFIPOST

ইতিহাস

শিল্প বিপ্লব কাকে বলে? মানব ইতিহাসে শিল্প বিপ্লবের প্রভাব বর্ণনা করো।

মোঃ আব্দুল  আলিম
অ+
অ-
শিল্প বিপ্লব কাকে বলে? মানব ইতিহাসে শিল্প বিপ্লবের প্রভাব বর্ণনা করো।

মানব সভ্যতার দীর্ঘ যাত্রাপথে শিল্প বিপ্লব এমন একটি যুগান্তকারী ঘটনা যা কেবলমাত্র অর্থনৈতিক কাঠামোই পরিবর্তন করেনি, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই বিপ্লব মানুষের জীবনযাপন, কর্মপদ্ধতি এবং চিন্তাধারায় এমন এক রূপান্তর এনেছে যার প্রতিধ্বনি আজও আমরা অনুভব করি। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফরাসি লেখকগণ যখন প্রথম শিল্প বিপ্লব শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন হয়তো তারা উপলব্ধি করতে পারেননি যে এই পরিভাষাটি ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকালকে চিহ্নিত করবে।

ফেসবুক

টেলিগ্রাম

শিল্প বিপ্লবের ধারণা ও ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

শিল্প বিপ্লব শব্দটি বুঝতে হলে প্রথমে এর দুটি অংশ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। ল্যাটিন শব্দ ইন্ডাস্ট্রিয়া থেকে ইংরেজি শব্দ ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্পের উৎপত্তি, যার অর্থ দক্ষতা, সক্ষমতা এবং সম্পদশালী হওয়া। ব্যাপক অর্থে শিল্প বলতে বোঝায় অর্থকরী পণ্য ও সেবা উৎপাদনে ব্যবহৃত সামগ্রিক ব্যবস্থা ও হাতিয়ার। অন্যদিকে বিপ্লব শব্দটি নির্দেশ করে কোনো প্রতিষ্ঠিত বা প্রচলিত ব্যবস্থার সম্পূর্ণ আমূল, আকস্মিক এবং দ্রুত পরিবর্তন যা দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী প্রভাব ফেলে।

সুতরাং শিল্প বিপ্লব বলতে সাধারণত উৎপাদন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত আমূল, আকস্মিক এবং দ্রুত পরিবর্তনকে বোঝায়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা কেবল কারখানায় যন্ত্রপাতি স্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সামগ্রিক সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক কাঠামোতে ব্যাপক রূপান্তর ঘটিয়েছিল।

বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শিল্প বিপ্লবের সংজ্ঞা

শিল্প বিপ্লবের ধারণা স্পষ্ট করতে বিভিন্ন পণ্ডিত ও গবেষক তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। সমাজকল্যাণ অভিধান অনুসারে শিল্প বিপ্লব হচ্ছে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনাদি যা অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কারখানা ব্যবস্থার সূচনার সাথে সাথে ঘটেছিল। এই সংজ্ঞাটি শিল্প বিপ্লবের বহুমাত্রিক প্রকৃতি তুলে ধরে।

দ্য নিউ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা শিল্প বিপ্লবকে ব্যাখ্যা করেছে কৃষিভিত্তিক হস্তচালিত অর্থব্যবস্থা থেকে শিল্প ও যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতিতে রূপান্তরের এক ব্যাপক প্রক্রিয়া হিসেবে। এই সংজ্ঞা মূলত অর্থনৈতিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের দিকে আলোকপাত করে।

প্রফেসর লেডি উইলিয়ামস তার সংজ্ঞায় সময়কাল এবং ভৌগোলিক অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে বলেছেন যে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রয়োগ পদ্ধতিতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা দেয় তাকেই শিল্প বিপ্লব বলে। এই দৃষ্টিভঙ্গি শিল্প বিপ্লবের উৎসভূমি এবং সময়কাল নির্দিষ্ট করে দেয়।

অমিত সেন একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন যে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে উঠার যে অবস্থার মধ্য দিয়ে সম্ভব হয়েছিল, ইতিহাসে সেই প্রক্রিয়াকেই শিল্প বিপ্লব নামে অভিহিত করা হয়। এই সংজ্ঞাটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার রূপান্তরের উপর জোর দেয়।

আরনল্ড টয়েনবি তার বিখ্যাত ব্যাখ্যায় বলেছেন যে আগে যেখানে কায়িক পরিশ্রমে উৎপাদন হতো সেখানে কায়িক শ্রমের স্থান দখল করে নেয় যন্ত্র। উৎপাদনে যন্ত্রের এই আবির্ভাব উৎপাদন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটায়, যা ইতিহাসে শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত। এই সংজ্ঞা মূলত প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মূল বিষয়টি স্পষ্ট করে।

অধ্যাপক উইলিয়াম আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন যে আঠারো শতকের শেষ ভাগ থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইংল্যান্ডে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রয়োগ পদ্ধতিতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকেই শিল্প বিপ্লব বলা হয়।

এই সকল সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে শিল্প বিপ্লব শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এক সর্বাত্মক রূপান্তর।

মানব ইতিহাসে শিল্প বিপ্লবের প্রভাব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

শিল্প বিপ্লব মানব সভ্যতায় এমন কিছু পরিবর্তন এনেছিল যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। এর প্রভাব এবং বৈশিষ্ট্যগুলো বহুমাত্রিক এবং গভীর। নিচে শিল্প বিপ্লবের প্রধান প্রভাব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও প্রয়োগের যুগান্তকারী পরিবর্তন

শিল্প বিপ্লবের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ব্যাপক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক পদ্ধতির উদ্ভাবন এবং মানুষের পেশিশক্তি ও পশুশক্তির পরিবর্তে এসব প্রযুক্তির প্রয়োগ। বাষ্পীয় ইঞ্জিন, যন্ত্রচালিত তাঁত, ধাতু গলানোর আধুনিক পদ্ধতি এবং অসংখ্য যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হয় যা উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে। এর ফলে মানুষের কায়িক শ্রমের উপর নির্ভরশীলতা কমে যায় এবং উৎপাদন ক্ষমতা অভাবনীয় মাত্রায় বেড়ে যায়।

উৎপাদন ব্যবস্থায় আমূল ও যুগান্তকারী রূপান্তর

শিল্প বিপ্লবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উৎপাদন ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ আমূল ও যুগান্তকারী পরিবর্তন। হাতে তৈরি পণ্যের যুগ শেষ হয়ে যন্ত্রনির্ভর ব্যাপক উৎপাদনের যুগ শুরু হয়। ঘরে বসে দক্ষ কারিগরদের দ্বারা তৈরি পণ্যের পরিবর্তে কারখানায় যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুত ও বৃহৎ পরিমাণে পণ্য তৈরি হতে থাকে। এই পরিবর্তন শুধু উৎপাদন পদ্ধতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।

প্রাকৃতিক সম্পদের আয়ত্ত ও ব্যবহার

শিল্প বিপ্লবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ যেমন কয়লা, তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ আয়ত্তকরণ ও তাদের বাণিজ্যিক ব্যবহার। এই সম্পদগুলোকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে যন্ত্রপাতি চালানো হতো, যা পূর্বে মানুষ বা পশুর শক্তি দ্বারা সম্ভব ছিল না। কয়লা ছিল শিল্প বিপ্লবের প্রাণশক্তি, যার উপর ভিত্তি করে বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালিত হতো এবং লৌহ শিল্পের বিকাশ ঘটে।

কুটির শিল্প থেকে বৃহৎ কারখানা ব্যবস্থায় উত্তরণ

শিল্প বিপ্লবের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কুটিরশিল্প বা ক্ষুদ্রায়তন উৎপাদনের পরিবর্তে বৃহৎ ও সুপরিসর কারখানা ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার প্রবর্তন। ছোট ছোট কর্মশালার জায়গায় বিশাল কারখানা স্থাপিত হয় যেখানে শত শত শ্রমিক একসাথে কাজ করতে থাকে। এই পরিবর্তন শুধু উৎপাদনের পরিমাণই বাড়ায়নি, বরং কর্মসংস্থানের ধরন এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করে।

কৃষি অর্থনীতি থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর

শিল্প বিপ্লবের পূর্বে বিশ্বের অধিকাংশ সমাজ ছিল কৃষিভিত্তিক, যেখানে অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ছিল কৃষি উৎপাদন। কিন্তু শিল্প বিপ্লব কৃষি অর্থনীতির পরিবর্তে পুঁজির বিকাশের মাধ্যমে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে সম্পদ সৃষ্টির উৎস পরিবর্তিত হয় এবং শিল্পই অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তন সমাজের ক্ষমতা কাঠামোতেও প্রভাব ফেলে।

কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও শিল্পের সাথে সংযোগ

শিল্প বিপ্লব শুধু শিল্প খাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং কৃষি খাতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। আদিম ও ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতির স্থলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ শুরু হয়। কৃষি যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ, সার ও সেচ ব্যবস্থার প্রয়োগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে। তাছাড়া কৃষি খাত শিল্পের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ করতে শুরু করে, যেমন তুলা, পাট এবং অন্যান্য শস্য। এভাবে কৃষি ও শিল্পের মধ্যে একটি পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ধনতন্ত্র বা পুঁজিবাদের বিকাশ

শিল্প বিপ্লবের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমাজে ধনতন্ত্র বা পুঁজিবাদের ব্যাপক বিকাশ। পুঁজির মালিকরা কারখানা স্থাপন করে এবং শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে উৎপাদন শুরু করে। এই ব্যবস্থায় পুঁজির মালিকরা লাভ অর্জন করে এবং শ্রমিকরা মজুরির বিনিময়ে শ্রম প্রদান করে। এভাবে একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয় এবং আজও টিকে আছে।

প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা ও মুদ্রা অর্থনীতির প্রসার

শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথে পণ্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা এবং মুদ্রা অর্থনীতি ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়। পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, মূল্য নির্ধারণ এবং বাজার প্রতিযোগিতা শিল্প বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়ায়। বিনিময় প্রথার পরিবর্তে মুদ্রা লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ ও দ্রুততর হয়। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেরও সম্প্রসারণ ঘটায়।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও যুক্তিসঙ্গত হিসাব ব্যবস্থার প্রবর্তন

শিল্প বিপ্লব ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদ হস্তান্তরে যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা প্রবর্তন করে। আধুনিক হিসাব রক্ষণ পদ্ধতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং বীমা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। যুক্তিযুক্ত হিসাব ব্যবস্থা লেনদেনের ভারসাম্য বিধান করে এবং ব্যবসায়ীদের তাদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। এই সব পরিবর্তন বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তোলে।

শিল্পায়ন ও দ্রুত শহরায়ণ প্রক্রিয়া

শিল্প বিপ্লবের একটি অপরিহার্য এবং দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শিল্পায়ন ও শহরায়ণ প্রক্রিয়ার দ্রুত বিকাশ। কারখানা কেন্দ্রিক শহর গড়ে ওঠে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কর্মসংস্থানের সন্ধানে শহরে স্থানান্তরিত হতে থাকে। এর ফলে শহরগুলোর জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং নগর সভ্যতার নতুন রূপ দেখা দেয়। শহরে নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং বিনোদন কেন্দ্র গড়ে ওঠে। তবে এর নেতিবাচক দিকও ছিল, যেমন অপরিকল্পিত নগরায়ন, বস্তি সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্য সমস্যা।

মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন

শিল্প বিপ্লব মানুষের জীবনযাত্রার মান, কর্মপদ্ধতি এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে। উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে পণ্যের দাম কমে আসে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি মানুষের চলাচল সহজ করে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন ছিল এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। ধীরে ধীরে শ্রমিক আন্দোলন ও সংস্কারের মাধ্যমে তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটে।

সমাজে নতুন শ্রেণির উদ্ভব ও শ্রেণি সংগ্রাম

শিল্প বিপ্লবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রভাব হলো সমাজে দুটি নতুন শ্রেণির উদ্ভব। একদিকে গড়ে ওঠে পুঁজিপতি বা মালিক শ্রেণি যারা কারখানা ও উৎপাদন উপকরণের মালিক এবং অন্যদিকে গড়ে ওঠে শ্রমিক শ্রেণি যারা তাদের শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। এই দুই শ্রেণির মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে শ্রেণি সংগ্রামের জন্ম হয়। শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠিত হতে থাকে এবং শ্রমিক আন্দোলনের সূচনা হয়। এই সংগ্রাম পরবর্তীতে শ্রমিক অধিকার, ট্রেড ইউনিয়ন এবং শ্রম আইনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উপসংহার

শিল্প বিপ্লব কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি মানব সভ্যতার এক যুগান্তকারী মোড়। এই বিপ্লব মানুষের উৎপাদন পদ্ধতি, অর্থনৈতিক কাঠামো, সামাজিক সম্পর্ক এবং জীবনযাত্রার ধরনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। যদিও এর ফলে বহু সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের

ট্যাগস:

শিল্প বিপ্লব ইতিহাসইউরোপীয় ইতিহাসডিগ্রিঅনার্স

কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।

© কফিপোস্ট ডট কম

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন