KOFIPOST

KOFIPOST

পাঁচ ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে: গভর্নর

মোঃ মাসুদ রানা
অ+
অ-
পাঁচ ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে: গভর্নর

শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হলেও গ্রাহকসেবায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোর পেমেন্ট, রেমিট্যান্স এবং এলসিসহ সকল ধরনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

ফেসবুক

টেলিগ্রাম

গভর্নর ড. মনসুর বলেন, বোর্ড বাতিল করা হলেও ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হবে না। ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসিসহ সব ধরনের লেনদেন চলমান থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখা এবং পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ব্যাংকের সম্পদ ও আইটি সিস্টেম একীভূত করা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানান, পাঁচটি ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা রয়েছে এবং এসব ব্যাংকে আমানতকারীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ। লিকুইডেশন বা পরিসমাপন এড়াতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রথম ধাপেই কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. মনসুর আরও জানান, টেকসই নয় বলে ঘোষিত পাঁচটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রতিটিতে অস্থায়ী অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারির কাছে নন-ভায়েবিলিটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বোর্ডের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা আর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে জানান গভর্নর। নতুন এই সমন্বিত ব্যাংকের পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে দেশের অন্য যেকোনো ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি।

গভর্নর জানান, এটি সরকারি মালিকানাধীন হলেও বেসরকারি ব্যাংকের মতোই পরিচালিত হবে। পেশাদার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো থাকবে এবং পৃথক শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

শেয়ারহোল্ডিং বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে গভর্নর স্পষ্টভাবে বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন ঋণাত্মক। তাই শেয়ারের মূল্য শূন্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং কাউকেই কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

আমানতকারীদের সুরক্ষা বিষয়ে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে গভর্নর বলেন, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীরা শতভাগ টাকা তুলতে পারবেন। বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। এর বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। তবে তিনি সবাইকে উদ্বেগ না করে শুধু প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ তোলার অনুরোধ জানান।

জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর জানান, এটি দেশের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত। সরকার পরিবর্তন হলেও জনগণের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে।

সূত্র: বাংলা এডিশন

ট্যাগস:

ইসলামী ব্যাংকবাংলাদেশ ব্যাংকব্যাংক একীভূতকরণ

কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।

© কফিপোস্ট ডট কম

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন