বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে চায় পেপাল, জানালেন গভর্নর
মোঃ মাসুদ রানা
প্রকাশঃ ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৮ এএম

বৈশ্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপাল (PayPal) খুব শিগগিরই বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী। এই প্ল্যাটফর্মটি চালু হলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা আরও সহজে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি করতে এবং দ্রুত তাদের পেমেন্ট গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও চ্যানেল আই আয়োজিত ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহ্সান এইচ মনসুর এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি জানান।
গভর্নর বলেন, আন্তর্জাতিক এই ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে ব্যবসা করতে চায়। পেপাল চালু হলে দেশের ছোট উদ্যোক্তারা সহজে তাদের পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারবেন এবং লেনদেনের প্রক্রিয়াও সহজ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছোট চালান পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই প্ল্যাটফর্ম সেই বাধা দূর করবে।
তিনি আরও জানান, কেবল পণ্য বিক্রি নয়, বর্তমানে আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং খাতের সঙ্গে জড়িত অনেকেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তাদের প্রাপ্য পেমেন্ট পেতে সমস্যার সম্মুখীন হন। অনেক ক্ষেত্রেই সেই অর্থ আর পাওয়া যায় না। বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত পেপাল ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্টের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বস্ত ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর ব্যাংক বা কার্ডের সঙ্গে সুরক্ষিতভাবে যুক্ত থেকে দ্রুত লেনদেন সম্পন্ন করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেশের সামগ্রিক অর্থব্যবস্থা নিয়েও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের দুর্নীতির মূল কারণের গভীরে রয়েছে নগদ লেনদেন। তিনি জানান, বর্তমানে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা শুধু নগদ লেনদেন ব্যবস্থাপনার পেছনেই খরচ হয়। সরকার ধীরে ধীরে নগদ লেনদেন কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
কৃষি ঋণ প্রসঙ্গে গভর্নর আহ্সান এইচ মনসুর জানান, বর্তমানে দেশের মোট ঋণের মাত্র ২ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দ। কৃষিখাতের উন্নয়নের স্বার্থে এই হার ১০ শতাংশে উন্নীত করা দরকার। তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থাকলেও ব্যাংকগুলোর সক্ষমতার ঘাটতির কারণে তা সম্পূর্ণরূপে বিতরণ করা যাচ্ছে না। তবে তিনি জোর দেন যে সদিচ্ছা থাকলে এই খাতের উন্নয়নে অনেক কিছু করা সম্ভব।
খাদ্যশস্য উৎপাদনে দেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতির কথা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর যেখানে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল মাত্র ১.৩ কোটি টন, সেখানে এখন তা প্রায় ৪ কোটি টনে পৌঁছেছে, যা তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি। তিনি এই অর্জনকে দেশের জন্য এক বড় সাফল্য বলে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং চ্যানেল আই যৌথভাবে কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য আটজন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করে। ৫০০টিরও বেশি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর বিজয়ীদের চূড়ান্ত করা হয়।
খবর: টিবিএস
কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।
© কফিপোস্ট ডট কম
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন